FC Barcelona Fans Bangladesh

Sports

Barça are more than a team, more than a club. Welcome to FC Barcelona Fans Bangladesh, your source for FC Barcelona news.


FC Barcelona Fans Group Bangladesh Is Basically The Biggest Barca Fans Group Of Facebook Around The World.
We Have A Big Quantity Of Members which is more than 800k.
Join In Our group To Get All The News and updates About Your Favourite Team.

0:10
প্রথম ট্রেবল জয়ের গল্প : সোনালী অতীত ২০০৮ সাল, সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছিল বার্সার। পরপর দুই সিজনে ইউরোপিয়ান ব্যর্থতার সাথে লা লীগায় হতাশাজনকভাবে তৃতীয় স্থানে। ক্রুইফের পরামর্শে গার্দিওলা যখন বার্সার কোচ হয়ে আসলেন তখন চ্যাম্পিয়ন্স লীগে জায়গা করে নিতে বাছাই পর্বে লড়াই করতে হয়েছিল বার্সাকে। ফেভারিটের তকমা তো দূরে থাক রোনালদিনহো , ডেকো ,জামব্রোতাহীন বার্সাকে নিয়ে কোনো ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের উদ্বেগ ছিল না। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সিজনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি গার্দিওলা। এক ঝাঁক তরুণদের নিয়ে দল সাজালেন। বি দল থেকে নিয়ে আসেন পেড্রো এবং সার্জিও বুস্কেটসকে। সেভিয়া থেকে সাইন করান দানি আলভেস এবং সেইডু কেইতাকে। ইউনাইটেড থেকে ফিরিয়ে এনে জেরার্ড পিকেকে বানান ডিফেন্সে ক্যাপ্টেন পুয়োলের সঙ্গী।মিডফিল্ডে জাভি-ইনিয়েস্তা আর আক্রমনে অরি-মেসি-ইতো। তিকিতাকায় বিশ্বাসী গার্দিওলার অধীনে এই তরুণ দলটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠে ভয়ংকর সুন্দর। বাছাইপর্বে বার্সা প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় পোল্যান্ডের ক্লাব উইস্তা ক্রাকোকে। ন্যু ক্যাম্পে প্রথম লেগের ম্যাচে কোচ হিসেবে অভিষেক হয় গার্দিওলার।৪-০ গোলের সহজ জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ অনেকতা নিশ্চিত করে ফেলে বার্সা। দ্বিতীয় লেগে ০-১ গোলে হেরে গেলেও ৪-১ এগ্রিগেটে গ্রুপ পর্ব নিশ্চিত করে বার্সা। গ্রুপ সি তে বার্সা প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় পর্তুগালের স্পোর্টিং সিপি , ইউক্রেনের শাখতার দোনেতস্ক আর সুইজারল্যান্ডের এফসি বাসেলকে। ন্যু ক্যাম্পে মারকেজ,ইতো,জাভির গোলে প্রতগম ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে। দ্বিতীয় ম্যাচে শাখতারের মাঠে ৮৭ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকে বার্সা। তারপর শুরু হয়ে মেসি ম্যাজিক। একের পর এক ড্রিবলিং আর শটস অন গোলের পর ৮৭ এবং ৯৪ মিনিটে মেসির দুটি দুর্দান্ত গোলে জয় নিয়ে ফিরে আসে বার্সা। এরপর সুইজারল্যান্ডে গিয়ে বাসেলকে ৫-০ গোলে হারিয়ে নক আউট পর্ব প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে বার্সা। ফিরতি লেগে ন্যু ক্যাম্পে ১-১ গোলে ড্র হয়। কম গুরুত্বপূর্ন ম্যাচ হওয়ায় মূল একাদশের অনেককেই বিশ্রামক দেন গার্দিওলা। পরের ম্যাচে লিসবনে ৫-২ গোলের জয় পায় বার্সা। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বি দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে গিয়ে ২-৩ গোলে হেরে যায় বার্সা।তবুও ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে যায় তারা। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে প্রতিপক্ষ হিসবে পায় ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়ন্ম অলিম্পিক লিওকে।লিওনে প্রথম লেগের ম্যাচে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বার্সা। এরপর দ্বিতীইয়ার্ধে করা থিয়েরি অরির এওয়ে গোলে ড্র নিয়ে ফিরে আসে বার্সা। ন্যু ক্যাম্পে দ্বিতীয় লেগে দুর্ধর্ষ বার্সার তোপে প্রায় উড়ে যায় লিও। প্রথমার্ধে লিওর জালে ৪ বার বল জড়ায় বার্সা। ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন ৫-২।এগ্রিগেটে ৬-৩ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হয় বার্সা। যারা রাউন্ড অফ সিক্সটিনে বার্সার গ্রুপ পর্বের সঙ্গী স্পোর্টিং সিপিকে ১২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারে এসেছিল। স্বপ্ন ভঙ্গের ভয় ও টেনশন সব উবে যায় ম্যাচ শুরু হতে না হতেই। মেসি-ইতোর গোলে ১২ মিনিটে ২-০ এবং হাফ টাইম শেষে ৪-০। দ্বিতীয় হাফে প্রচুর মিস করে বার্সা। মিডফিল্ডে জাভি-ইনিয়েস্তা জুটির সামনে দাঁড়াতেই পারের নি জার্মান জায়ান্ট। ফিরতি লেগে বায়ার্নের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে স্বপ্ন জয়ের পথে আর একধাপ এগিইয়ে যার বার্সা। সেমিফাইনের লাইন আপ বার্সা বনাম চেলসি। আর একটি শ্বাসরুদ্ধকর টাইয়ের অপেক্ষায় ছিল ফুটবল সমর্থকরা। প্রথম লেগ অনুষ্ঠিত হয় ন্যু ক্যাম্পে। ড্রয়ের জন্য লড়াই করা চেলসি বাস পার্কিং করে খেলা শুরু করে। চেলসি গোলকিপার চেকের অসাধরণ পারফরমেন্সে গোল বঞ্চিত থাকে বার্সা। গোল শূন্য ড্র্ইয়ে শেষ হয় ম্যাচ। পুরো ম্যাচে চেলসি মাত্র একবার গোলে শট নেয়। স্ট্যামফোর্ড ব্রীজের দ্বিতীয় লেগে একের পর এক আক্রমণ শুরু করে চেলসি। ঘানাইয়ান তারকা মাইকেল এসিয়েনের দূরপাল্লার শটে পরাস্ত হয় ভালদেস। চেলসির প্রেসিং ফুটবলের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে বার্সা মিডফিল্ড। একের পর এক সেভ করে বার্সাকে ম্যাচে ধরে রাখেন ভালদেস। এরপর আবিদালের লাল কার্ড বার্সাকে আরো পিছিয়ে দেয়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহুর্তে চেলসি সমর্থকরা যখন উদপযাপন শুরু করেছিল ঠিক তখনি ম্যাচের শেষ আক্রমনে উঠে আসে দানি আলভেস। জন টেরির ক্লিয়ারেন্স ইতো হয়ে মেসির কাছে আসেন। গোলে শট না নিয়ে ডান দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ইনিয়েস্তাকে পাস দেন মেসি। ডি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ইনেয়স্তার দূর্দান্ত শট আছড়ে পরে জালে। গোললললল!স্তব্ধ হয়ে যায় স্ট্যাম ফোর্ড ব্রীজ। বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করার আগ পর্যন্ত সেটাই হয়তো ডনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা এবং সবচেয়ে রোমাঞ্চকর গোল।১-১ গোলে ড্র হওয়ায় এওয়ে গোলের সুবাদে ফাইনালে বার্সা। রোমের ইস্তাদিও অলিম্পিকোতে ফাইনালে বার্সার প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। যারা পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলে ইন্টার মিলান, পোর্তো, আর্সেনালকে বিদায় করে দিয়ে ফাইনালে এসেছে।এদিকে কার্ড সাসপেনশনে আলভেস,আবিদাল এবং ইনজুরিতে মারকেজ। কিউলদের মনে দুশ্চিন্তা। বার্সা কি পারবে গুরুত্বপূর্ন প্লেয়ারদের ছাড়াই রুনি রোনালদো গিগস স্কোলস এন্ডারসন সারদের হারিয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটা অর্জন করতে ? রেফারির বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ইউনাইটেডের আক্রমণ। ডি বক্সের বাইরে ডেঞ্জারাস পজিশন থেকে ফ্রিকিক আর কর্নারে ভালদেস পিকেদের অস্বস্তিতে ফেলে দেয় তারা। কিন্ত ১০ মিনিটের মাথায় ইতোর অসাধরণ এক গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। গোল খেয়ে ইউনাইটেড অল আউট এটাকে আসে। কিন্তু চুলচেরা ডিফেন্স এবং ভালদেসের দৃড়তায় প্রতিবারই বেঁচে যায় বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় জাভি-ইনিয়েস্তা শো। তিকিতাকা আর নিখুঁত পাসিংইয়ের মাধ্যমে পুরো মধ্যমাঠের কন্ট্রোল নেয় বার্সা। গোল শোধের নেশায় মরিয়া ইউনাইটেড কড়া ট্যাকেল করা শুরু করে যার শিকার হয় খোদ মেসিই। সেদিন যেন মেসির মধ্যে জঙ্গলের রাজা সিংহ ভর করেছিল। একের পর এক রাফ ট্যাকেল হজম করে দুই পায়ে প্রচন্ড ব্যথ্যা নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়েই ইউনাইটেড ডি বক্সে ফুটবল শৈলী উপস্থাপন করতে থাকেন।ম্যাচের বয়স যখন ৭০ মিনিট ঠিক তখন জাভির ক্রসে মেসির দূর্দান্ত হেডে স্কোরলাইন ২-০!!! ক্যারিয়ারের সেরা সেই হেডারটি দেখে ক্যাপ্টেন পুয়োল নিজেই বিস্মিত হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। লা লীগা, কোপা দেল রে আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। স্তাদিও অলিম্পিকোতে শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই প্রথমবার ট্রেবল জয়ের আনন্দে মেতে উঠে পুরো বার্সা ক্যাম্প। ৯ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা , টূর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় ফুটবলের ছোট্ট জাদুকর মেসি। চোখ ধাধানো ফুটবল খেলে একে একে মিউনিখ , লন্ডন , রোম জয় করে ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেয় গার্দিওলার শীর্ষরা। শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। গার্দিওলার অধীনে বার্সার ড্রিম টিমের ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করার অধ্যায়। লেখা : Nishat Raihan #FCBFGB
6 months ago