Prabhu Jagadbandhusundar

Nonprofit Organization

3:51
(সন্ন্যাসীর অন্তদৃষ্টি) ----------------------------------------------------------------------------------------- ন্যায়রত্ন মহাশয় একদিন গঙ্গাধর কবিরাজ মহাশয়ের নিকট একটি সংবাদ পাইলেন। মুর্শিদাবাদের রাণী স্বর্ণময়ীর বাড়িতে একজন নেপালি সন্ন্যাসী আসিয়াছেন। তিনি জোতিঃশাস্ত্রে পারদর্শী এবং অনেক লোককে ভূত ভবিষ্যৎ বলিয়া দিতেছেন। ন্যায়রত্ন মহাশয় নিজ পুত্রের ভবিষ্যৎ জানিবার উদ্দেশ্যে স্বকৃত ঠিকুজিখানি লইয়া তাঁহার নিকট গমন করিলেন। ঠিকুজিখানা দেখিয়া সন্ন্যাসীপ্রবর অস্বাভাবিক ভাবে স্তম্ভিত হইয়া রহিলেন। ক্ষণকাল পরে বলিলেন, “পণ্ডিতজী, আপনি ঠিকুজিখানা রাখিয়া যান, ভালো করিয়া দেখিবার ইচ্ছা আছে। আর একদিন আসিবেন।” ন্যায়রত্ন মহাশয় দ্বিতীয় দিন সন্ন্যাসীর নিকট উপনীত হইতেই তিনি হঠাৎ বলিয়া উঠিলেন, “আপনার ছেলে বেঁচে আছে তো?” ন্যায়রত্নের মুখ কালি হইয়া গেল। শুষ্ককন্ঠে কহিলেন,”আজ্ঞে, অমন কথা কেন বলছেন্ ! খোকার কি কোনো অমঙ্গল দেখতে পেলান ?” সন্ন্যাসীপ্রবর সুর ফিরাইয়া বলিলেন,” না, খোকা কি করছে, তাই জিজ্ঞেস করছিলাম। “ন্যায়রত্ন মহাশয় বলিলেন ,”খোকা খেলা করছে।” সন্ন্যাসীজী কহিলেন ,”তাহাকে একবার এখানে আনতে পারেন? আমি দেখব।” ন্যায়রত্ন মহাশয়,”যে আজ্ঞে” বলিয়া চলিয়া গালেন। তৃতীয় দিবস পুত্রবৎসল পিতা সে অমুল্যরত্ন কন্ঠে দোলাইয়া গঙ্গাপার হইয়া সন্ন্যাসী মহারাজের সন্নিধানে উপস্থিত হইলেন। শিশু -সুন্দরকে দর্শন করিবামাত্র সন্ন্যাসী ঠাকুর উঠিয়া দাঁড়াইলেন। ন্যায়রত্ন মহাশয়ের ক্রোড় হইতে তাঁহাকে নিজ বাহুপাশে লইলেন। তারপর বুকের উপর রাখিয়া অশ্রপাত করিতে লাগিলেন। ইহাতে ন্যায়রত্ন সভয়ে বলিলেন, “আপনি খোকার অকল্যাণ করিতেছেন কেন? “সন্ন্যাসী সে কথার কোনো উত্তর না দিয়া নিজ শিরোপরি পন্ডিত দীননাথ নন্দনের কচি পা দু`খানি রাখিলেন। দৃ্শ্য দেখিয়া দীননাথ অবাক্। তিনি ভীতস্তভাবে বলিয়া উঠিলেন,”আপনি এ কি কারেন ! এতে যে খোকার অকল্যাণ হবে! আপনি খোকার মাথায় পায়ের ধূলা দিন্।” সন্ন্যাসীপ্রবর তখন বাহ্যজ্ঞানহারা অবস্থায় দুলিতেছিলেন। পণ্ডিত মহাশয়ের কথা তাঁহার কানে প্রবেশ করিতেছিল না। কিন্তু সময় পরে প্রকৃতিস্থ হইয়া শিশু-সুন্দরকে ন্যায়রত্নের কোলে প্রত্যর্পণ করিয়া কহিলেন, ” আমার বাংলা দেশে আসা সার্থক হইল। এরূপ ভাগ্য প্রতিবারেই একজনের ঘটিয়া থাকে। এবার আমার সেই ভাগ্য উপস্থিত। ন্যায়রত্ন, তোমাকে আর কি বলিব ! যে পাঁচটি গ্রহের সংযোগে অবতারের জন্ম, যেমন শ্রীরামচন্দ্র-লক্ষণ, সেই পাঁচটি গ্রহই ইহার জন্মলগ্নে তুঙ্গস্থ। ইনি দিগ্বীজয়ী মহাপুরুষ হইবেন। ইহার দ্বারা জীব কৃতার্থ হইবে।” ইহার পর সেই জ্যতিষী সন্ন্যাসীকে আর কেহ মুর্শিদাবাদ শহরে দেখে নাই। দেবী কিরীটেশ্বরীর মন্দির হইতে অপর একজন সন্ন্যাসী একদিন ডাহাপাড়ায় আসিয়াছেন। যদৃচ্ছাক্রমে ঘুরিতে ঘুরিতে তিনি দীননাথ-ভবনে উপস্থিত। বামাদুলাল অঙ্গনে হামাগুড়ি দিয়া খেলিতেছে। বিস্ময়-বিস্ফারিত নেত্রে সন্ন্যাসী শিশুটির দিকে কিছুক্ষণ চাহিয়া বলিলেন, “এ ছেলে কা’র? এ যে রাজা হ’বে !” ন্যায়রত্ন মহাশয় ঐ কথা শুনিয়া উত্তর করিলেন, “সাধুজী, গরীব ব্রাহ্মণের সন্তান, রাজা হ’বে কি প্রকারে?” সন্ন্যাসী অপেক্ষাকৃত গম্ভীর স্বরে তৎক্ষণাৎ কহিলেন, “ভোগের রাজা ওহে, যোগের রাজা। ঐ যে চরণে ধ্বজ বজ্রাঙ্কুশরেখা দেখা যাইতেছে।” এই বলিয়া সন্ন্যাসী ক্রীড়াপরায়ণ শিশু-সুন্দরের রক্তোৎপল-সদৃশ শ্রীচরণের দিকে নিজ তর্জ্জনী নির্দ্দেশ করিলেন। সন্ন্যাসী ঠাকুরদের এই সকল ভবিষ্যদ্বাণী দীননাথ বামাদেবীকেও জানাইয়া দিলেন। তিনি শুনিয়া স্বামীকে বলিলেন, “দেখো, ওসব কথায় কাণ দিও না। ছেলে বাঁচে কি না তাই দেখ। দুঃখিনীর দুঃখের ধন।” দুই জনেরই চক্ষু জলে ভরিয়া আসিল। উভয়ে পুত্রের মুখ চাহিয়া বিপদবারণ নারায়ণ স্মরণ করিতে লাগিলেন। পুর্ব্বাপর কোনো কথাই আর তাঁহদের মনে স্থান করিতে পারিল না। জয় জগদ্বন্ধু । (শ্রীশ্রী বন্ধু লীলা তরঙ্গিনী)
3 years ago